নিজস্বপ্রতিবেদক: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির তিন বারের সভাপতি এক বিএনপি নেতার বহিষ্কারাদেশ নিয়ে চলছে নাটকীয়তা। দিনে বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করে আবার রাতে বহাল করার ঘটনা নিয়ে নেতাকর্মী দের মধ্যে চলছে আলোচনা সমালোচনা। নেতাকর্মীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার বহিস্কৃত নেতাকর্মী দের বহিস্কার আদেশ তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। কি এমন ঘটনা ঘটল যে জগন্নাথপুর উপজেলার নেতার বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করার কয়েক ঘন্টার মধ্যে বহাল করা হলো। দূর্দিনে গুলির মূখে আন্দোলন -সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া এই ত্যাগী নেতার ব্যাপারে এই নাটকীয় ঘটনায় স্হানীয় অনেক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, দল যদি মেধাবী ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয় তা হলে ভবিষ্যৎ এ দলের জন্য ক্ষতির কারন হতে পারে। দলকে মনে রাখতে হবে শতশত চামচা-চাটুকার দালাল লুটেরা মানষিকতার নেতাকর্মীর চেয়ে একজন সৎ ও ত্যাগী নেতার মূল্য সাধারন জনগনের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ন।সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আক্তার হোসেনের দলীয় বহিষ্কারাদেশ একদিনের ব্যবধানে প্রত্যাহার ও পুনর্বহাল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আক্তার হোসেনের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার এবং তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদ পুনঃবহাল করার কথা জানানো হয়। তবে রাতেই রিজভীর আরেকটি চিঠিতে ভুলবশত আক্তার হোসেনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ করা হয় এই চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দুই ধারায় বিভক্ত। একপক্ষের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারন সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য কয়ছর এম আহমদের আশীর্বাদ পুষ্ট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা সাদ মাস্টার, অপরপক্ষের নেতৃত্বে আছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন। আক্তার হোসেন ২০২১ সালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন। এরপর দল থেকে বহিষ্কার ও প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করা হয়। তবে তাঁর অনুসারীরা স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিক ভাবে দল থেকে মনোয়ন পান যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তরুন নেতা কয়ছর এম আহমেদ। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মনোয়ন প্রত্যাশী ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ সভাপতি এম এ সাত্তার, সাবেক সহসভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, যুক্তরাজ্যের স্নুইনডন শাখা বিএনপি সভাপতি এম এ কাহার, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক কর্নেল (অব:) সৈয়দ আলী আহমদের ছেলে মেজর (অব:) আশফাক আহমদ। এরা চারজনই ঐক্যের ডাক দিয়ে এক মঞ্চ থেকে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি এম এ মালেক খান ও নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে আসছিলেন। তারা দলের কাছে মনোয়ন চাইলেও মাঠের জরীপ বিবেচনায় দলের ত্যাগী নেতা বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত কয়ছর এম আহমদ কে মনোয়ন দেওয়া হয়।এ দিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেরকে কেউ কেউ সাবেক মেয়র আক্তার হোসেন বলয়ের নেতা হিসাবে ট্রিট করলেও আক্তার হোসেন কখনও কোন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনায় যোগ দেননি বা কয়ছর আহমদের বিরুধ্বে অবস্হান নেননি।উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্নসাধারন সম্পাদক বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য মির্জা আবুল কাশেম স্বপন বলেন, আক্তার হোসেন একজন জনপ্রিয় নেতা। তিনি দুইবারের নির্বাচিত মেয়র। বিএনপি কে জগন্নাথপুরে শক্তিশালী সংগঠনে রুপ দিতে তার অবদান রয়েছে। তিনি দলে ফিরলে দলের শক্তি আরো বৃদ্ধি পাবে দলের জন্য মঙ্গল জনক হবে।উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন জানান, আমার বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করায় দলের নীতিনির্ধারণী মহল কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, কয়ছর আহমদ পার্লামেন্ট নির্বাচন করবেন তার সাথে আমার কোন বিরুধ নেই। আমি তার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী। দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। এ ব্যাপারে সবার সহযোগীতা কামনা করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বহিস্কার আদেশ পূন: বহালের কোন চিটি আমি পাইনি। তিনি বলেন দল আমার উপর সুবিচার করেছে। আমার বিশ্বাস দীর্ঘ দিনের কর্মী হিসাবে দল কখনও আমার উপর অবিচার করবে না।
Leave a Reply