বৃহস্পতিবার, ১৮ Jun ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দামোধরতপী বিদ্যালয়ে শিক্ষার উন্নয়নে নতুন কমিটি কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে শান্তিগঞ্জে পার্টনার কংগ্রেস শান্তিগঞ্জে সচেতন নাগরিক পরিষদের কমিটি গঠন: মঞ্জুর সভাপতি, সিতু সম্পাদক জগন্নাথপুর ইসলামী ব্যাংকে যান্ত্রিক  ত্রুটি সারিয়ে অবশেষে গ্রাহককে টাকা প্রদান করেছে কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক জিলু কারামুক্ত; জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের ফুলেল শুভেচ্ছা শান্তিগঞ্জে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রীর এপিএস হাসনাত কা রা গা রে সুনামগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথপুরে আরএফএল শোরুম ‘মেসার্স শাহজালাল সেনেটারি’র উদ্বোধন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের  জগন্নাথপুর উপজেলা ও পৌর কমিটি অনুমোদন  সাংবাদিক আমিনুর রহমান জিলুর মুক্তির দাবিতে জগন্নাথপুরে প্রেসক্লাবের মানববন্ধন 

আজ সিরামিসি গণহত্যা দিবস: আলোচনা,  মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন

আজ সিরামিসি গণহত্যা দিবস: আলোচনা,  মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৯৭১ সালের ৩১শে আগস্ট সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সিরামিসি গ্রামে এক ভয়াবহ গণহত্যা সংঘটিত হয়।

আজ সেই বিভীষিকাময় দিন, সিরামিসি গণহত্যা দিবস।
সেই দিনের নিহত শহীদদের স্মরনে  সিরামিসি গ্রামবাসী শহীদ স্মৃতি সংসদ গঠন করে আঞ্চলিক শোক দিবস হিসাবে দিনটি পালন করে আসছেন। এই দিনে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল,  শহীদ মেধা বৃত্তি বিতরণ সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংক্রমণের কারণে এবার সিরামিসি গণহত্যা দিবস সংক্ষিপ্ত পরিসরে পালনের উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিধি মেনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন ও শহীদের আত্মার শান্তি কামনায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

জানাযায়, ১৯৭১ সালের ৩১ শে আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পাকহানাদার বাহিনী সাত-আট টি নৌকা যোগে সিরামিসি বাজারে আসে। স্থানীয়  কয়েকজন রাজাকার গ্রামবাসীদের কে খবর দেয় সিরামিসি হাইস্কুল মাঠে শান্তি কমিটির সভা আহবান করা হয়েছে। শান্তির আশায় গ্রামবাসীরা সে দিন স্কুল মাঠে সমবেত হয়। যারা আসতে দেরী করেন তাদেরকেও রাজাকারদের দিয়ে ডেকে আনা হয়। পরে পাকসেনারা ১০/১২ জন করে সিরামিসি বিদ্যালয়ের কাছে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে লাইন ধরিয়ে গুলি করে ১২৬জন লোককে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ছাত্র, শিক্ষক, সরকারী কর্মচারী, যুবক, সাধারন গ্রামবাসী ও বেড়াতে আসা স্বজন। নারকীয় এ হত্যাকান্ডের পরপরই পাকসেনারা  গ্রামে ঢুকে গ্রামের প্রায় শত শত ঘরবাড়ী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্হানীয় সূত্র জানান, পাক বাহিনীর বর্বরতার পর ভীত স্বতস্থ মানুষ জন গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেলে দাফনের অভাবে লাশগুলো কুকুর শেয়াল টানা হেচঁড়া করে। ঘটনার চার-পাঁচ দিন পর কয়েক জন লোক গ্রামে ফিরে লাশগুলো দাফনের ব্যবস্থা করে। সিরামিসি হত্যাকান্ডের বর্বর কাহিনীকে স্মরণ করে ১৯৭৩ সালে সরকারীভাবে শহীদের নাম সংবলিত স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হয়। এবং ১৯৮৭ সালে সিরামিসি গ্রামবাসী শহীদ স্মৃতি সংসদ  গঠন করে আঞ্চলিক শোক দিবস পালন করে আসছেন।
স্মৃতি সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য  মাহবুব হোসেন জানান, বৈশ্বিক করোনা  পরিস্থিতির কারণে এবার স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন ও শহীদের আত্মার শান্তি কামনায় মিলাদ মাহফিল ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান,সিরামিসি গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতি সৌধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017-2026 Jagannathpurnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com