রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ০৯:২০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
জগন্নাথপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার  জগন্নাথপুরে পাষন্ড ভাগ্নের ঝাটার আঘাতে মামা নিহত লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে জগন্নাথপুরে  ২ শতাধিক ভাসমান ব্যবসায়ীদের অপসারণ  বিএনপি সরকার গঠন করলে  প্রথম পর্যায়ে ৫০ লক্ষ পরিবার কে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে— কয়ছর এম আহমেদ হাসিনার বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে মাওলানা সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি ভোটাররা একটি সুস্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় আছেন— কয়ছর আহমদ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন: কয়ছর এম আহমদ অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি সরকার গঠন করবে — কয়ছর এম আহমেদ শিগগিরই সরাসরি দেখা হবে: তারেক রহমান

রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস আজ

রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস আজ

জগন্নাথপুর নিউজ ডেস্ক:: আজ ১লা সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নারকীয় তান্ডব চালিয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার প্রাচীনতম হাটবাজার রানীগঞ্জ বাজারে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণহত্যা চালায়। এতে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হন। নরপশুরা মানুষ হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি। মানচিত্র থেকে রানীগঞ্জ বাজারটি নিশ্চিন্ন করতে পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় পুরো বাজার। পর পর দুইটি গণহত্যায় জগন্নাথপুরবাসী বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩১ আগষ্ট উপজেলার শ্রীরামসি গণহত্যার পরদিন ১ সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জ বাজারে এ গণহত্যা সংঘটিত হয়। ইতিহাসের বর্বর এই নারকীয় তান্ডবে দেড় শতাধিক লোক মারা গেলেও হত্যাযজ্ঞের পর ৩৪ জনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়। অন্যদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। রানীগঞ্জ বাজারের এই ধ্বংসযজ্ঞের খবর তৎকালীন সময় বিবিসিতে প্রচারিত হয়। বর্বরোচিত এ হত্যাকান্ড এখনো কাঁদায় রানীগঞ্জবাসীকে।
ইতিহাস মতে, ৭১ এর পয়লা সেপ্টেম্বর রানীগঞ্জের সকল ব্যবসায়ী বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতা, বড় বড় নৌকার মাঝিসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্থানীয় রাজাকার এহিয়া ও রাজ্জাককে দিয়ে খবর পাঠানো হয় বাজারের রাজ্জাক মিয়ার দোকানে আসতে। এসময় কেউ কেউ ভয়ে পালালেও নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং ঝামেলা এড়ানোর জন্য শতাধিক মানুষ তাদের কথামতো উপস্থিত হন। সকলে জড়ো হবার পর কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় শতাধিক মানুষকে। পরে এদের নিয়ে যাওয়া হয় পাশের কুশিয়ারা নদীর তীরে। সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পেছন দিক থেকে গুলি করে রক্তে রঞ্জিত করে দেয়া হয় কুশিয়ারা নদীকে। প্রথম গুলিতে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় একাধিকবার লাইনে দাঁড় করিয়ে হত্যা করা হয়। নদীর স্রোতে ভেসে ভেসে যায় লাশ আর লাশ।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার সরবরাহ করত। বিষয়টি স্থানীয় কিছু রাজাকাররা পাক হানাদারদের জানিয়ে দেয় এবং পরে কিছু রাজাকারদের সহায়তায় পাক হানাদাররা বাজারের নিরীহ ব্যবসায়ী, নৌকার মাঝি, ব্যাপারীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষদের গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ায় অনেকের লাশও খুঁজে পাওয়া যায়নি। হত্যাকান্ডে শতাধিক মানুষ শহীদ হলেও ৩৪ জনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অনেক চেষ্টা করেও অন্যদের পরিচয় বের করা যায়নি। ১৯৮৭ সালে তৎকালীন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু খালেদ চৌধুরীর প্রচেষ্ঠায় ৩৪জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম ও ছয় জন আহতের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়।
২০১০ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় তৎকালিন উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তার প্রস্তাবে শ্রীরামসি ও রানীগঞ্জ গণহত্যার স্মৃতিসৌধে প্রশাসনিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই থেকে শ্রীরামসী ও রানীগঞ্জ গণহত্যার দিবসে প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এবারও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি পালন করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017-2023 Jagannathpurnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com