বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ইউএনও সাজেদুল ইসলাম অবশেষে বদলি হয়েছেন। সম্প্রতি সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় কর্তৃক এক প্রজ্ঞাপনে তার বদলির আদেশ আসে। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের প্রজ্ঞাপনে চলতি মাসের ৩ ডিসেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থেকে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় বদলির প্রজ্ঞাপন আসে। ৯ ডিসেম্বর তিনি জগন্নাথপুর ত্যাগ করেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলামের বদলির ফলে উপজেলা বাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
৬ ডিসেম্বর দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালনে প্রস্তুতি সভায় ইউএনও সাজেদুল ইসলাম সাংবাদিক দের নিয়ে নানা মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি বলেন, জগন্নাথপুর থেকে কেউ বদলি হয়ে গেলে সাংবাদিক রা তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে সপ্তাহ দিন পরে লিখবেন কেন, এখন লিখেন, এখন লিখলে আমি আপনাদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করবো বলে- দাম্ভিকতা প্রকাশ করে ঢালাওভাবে সকল সাংবাদিক দের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় উপস্হিত জাতীয় পত্রিকার এক জন প্রতিনিধি প্রতিবাদ করেন। এ সময় সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শতাধিক ব্যাক্তি বর্গ উপস্হিত ছিলেন। ইউএনও সাজেদুলের অনাকাঙ্ক্ষিত এ বক্তব্যে উপস্হিত সকলেই হতবাক হয়ে যান।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার জগন্নাথপুর প্রতিনিধি শংকর রায় বলেন, বিজয় দিবসের প্রস্তুতি সভায় ইউএনও সাজেদুল সাংবাদিক দের নিয়ে কেন যে বিদ্বেষ মূলক বক্তব্য দিলেন আমি বুঝত পারছি না তবে এর আগে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তার ব্যাপারে সংবাদ ছাপা হওয়ায় স্হানীয় প্রতিবাদী সাংবাদিক দের বিরুদ্ধে তিনি নানা অপপ্রচার করে আসছিলেন।
জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক দৈনিক যুগান্তর জগন্নাথপুর উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ সানোয়ার হাসান সুনু বলেন, তার বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত। বিজয় দিবসের প্রস্তুতি সভার সাথে ইউএনও এর বক্তব্য সামঞ্জস্য পূর্ন নয়।
জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের যুগ্নসম্পাদক দৈনিক প্রথম আলো জগন্নাথপুর প্রতিনিধি অমিত দেব বলেন, বিজয় দিবসের প্রস্তুতি সভায় বিজয় দিবস সুন্দর ভাবে উদযাপনের আলোচনা হবে সেখানে সাংবাদিক দের নিয়ে কেন দাম্ভিকতা দেখালেন ইউএনও এটাই আমাদের প্রশ্ন।
জানা গেছে, ইতোপূর্বে জগন্নাথপুরে সরকারি জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগে ওই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ আদালতে মামলা হয়। জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবপুর গ্রামের বাসিন্দা মুহিতুর রহমান তালুকদার সুনামগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ ও দায়রা জজ আদালতে ২০ মার্চ এ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে দুর্নীতি দমন কমিশন সিলেট জেলা কার্যালয়কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার আদেশ দেন।
এর আগে উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ করেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া খানম সাথী। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযো্গ দায়ের করেন তিনি। ওই অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের (এডিপি) ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে চাইলে ইউএনও বাধা দেন এবং দুর্ব্যবহার করেন। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম কর্তৃক বিভিন্ন লোকজনের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন সাজেদুল ইসলাম । তার কার্যকালে এলাকাবাসী নানা ধরনের অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
Leave a Reply