বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
আসসালামু আলাইকুম।
সর্বপ্রথম আমি জগন্নাথপুরের সকল সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই। আপনাদের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—শুধু আমাদের সমাজে কী ঘটছে তা তুলে ধরার জন্য নয়, বরং আমাদের এলাকার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতেও আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।স্থানীয় সাংবাদিকতার দায়িত্ব শুধু সংবাদ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আপনারাই সাধারণ মানুষের চোখ, কান ও কণ্ঠস্বর।জগন্নাথপুরে আমাদের অনেক সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে—সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, ড্রেনেজ ও পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ, কৃষি, পরিবেশ কিংবা আমাদের তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি—সব ক্ষেত্রেই নানা সমস্যা রয়েছে।অনেক সময় এসব সমস্যা স্থানীয় মানুষের কাছে সুপরিচিত হলেও, যাঁদের হাতে এগুলো সমাধানের ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সম্পদ রয়েছে, তাঁদের নজরের বাইরে থেকে যায়।এখানেই একজন স্থানীয় সাংবাদিক সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন আনতে পারেন।সমস্যা চিহ্নিত করুন।সমস্যাটিকে মানুষের সামনে তুলে ধরুন।এর প্রতি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন।এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন।একটি তথ্যভিত্তিক ও সুগবেষিত সংবাদ প্রতিবেদন অনেক সময় এমন ফলাফল আনতে পারে, যা একজন ব্যক্তির একক অভিযোগে সম্ভব হয় না। কোনো বিষয় যখন দায়িত্বশীলভাবে স্থানীয় গণমাধ্যমে উঠে আসে, তখন তা উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং প্রয়োজনে জাতীয় পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতেও পৌঁছাতে পারে।তবে আমি আপনাদের এটাও মনে রাখতে বলব—সাংবাদিকতা শুধু মানুষের ভুল খুঁজে বের করা কিংবা সমালোচনা করার নাম নয়।সাংবাদিকতা হলো সত্য অনুসন্ধান করা, সঠিক প্রশ্ন করা এবং সমাধানের পথ খুঁজে পেতে সমাজকে সহায়তা করা।আমাদের কর্তৃপক্ষ ভালো কোনো কাজ করলে তা অবশ্যই তুলে ধরুন। কোথাও সমস্যা হলে তা নিরপেক্ষভাবে প্রকাশ করুন। মানুষ কোথাও কষ্টে থাকলে তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠুন। আর কোথাও উন্নয়নের সম্ভাবনা থাকলে, সেই সম্ভাবনাকে যারা বাস্তবে রূপ দিতে পারেন, তাদের সামনে তা তুলে ধরুন।আমি বিশ্বাস করি, জগন্নাথপুরের সাংবাদিকরা এই এলাকার অগ্রগতির জন্য একটি শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।আপনাদের সাংবাদিকতা হোক স্বাধীন, সাহসী, ভারসাম্যপূর্ণ এবং গঠনমূলক।ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক কিংবা বাণিজ্যিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জগন্নাথপুর ও জগন্নাথপুরের মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিন।আপনারা যদি নিয়মিতভাবে মানুষের প্রকৃত সমস্যা ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন, সেগুলোর অনুসরণ করেন এবং ন্যায়সঙ্গত ও দায়িত্বশীলভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনেন, তাহলে আপনাদের সাংবাদিকতা ইতিবাচক পরিবর্তনের এক শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে জগন্নাথপুরের শুধু এমন সাংবাদিকের প্রয়োজন নেই, যাঁরা কী ঘটছে তা জানান।জগন্নাথপুরের এমন সাংবাদিকও প্রয়োজন, যাঁরা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবেন—সঠিক কাজগুলো যেন সঠিকভাবে হয়।
আল্লাহ আপনাদের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য সাহস, প্রজ্ঞা ও সততা দান করুন। আপনাদের কলম ও কর্ম যেন আমাদের মানুষের কল্যাণ এবং আমাদের প্রিয় জগন্নাথপুরের উন্নয়নে অবদান রাখে—এই দোয়া করি।
ধন্যবাদ।জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
আজিজুল হক তাহের,
লেখক ও কলামিস্ট।
Leave a Reply