বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৩১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
শান্তিগঞ্জে স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার  শান্তিগঞ্জে বিএনপির মতবিনিময় সভা জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান খালেদা জিয়ার শান্তিগঞ্জে ধান শুকানোর জায়গা দখল নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০ জাতীয় দৈনিক স্বাধীন বাংলা পত্রিকায় নিয়োগ পেলেন উসমান গনি দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে নিয়োগ পেলেন দীলিপ দাশ দেশনেত্রী বেগম জিয়ার সুস্হতা কামনায় জগন্নাথপুরে দুয়া ও ইফতার মাহফিল জগন্নাথপুর নাগরিক অধিকার পরিষদের উদ্যাগে ইফতার দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জামালগঞ্জে যাত্রীবাহী নৌকাডুবি, শিশুসহ নিহত ৪

শরীরে একজিমা হলে করণীয় কী?

শরীরে একজিমা হলে করণীয় কী?

শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের নারী পুরুষ অনেকেই চুলকানি নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসেন৷ এসব রোগীদের বিভিন্ন চর্মরোগের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত যে রোগটি সেটি হলো অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস (AD), যা একজিমা নামে বহুল পরিচিত৷ আজকে আলোচনা করবো একজিমা কী, কেন হয় এবং এতে করণীয় সম্পর্কে৷

অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস বা একজিমা ত্বকের এক ধরণের প্রদাহ৷ এর ফলে ত্বক প্রচুর চুলকায়, লালচে হয়ে ফুলে উঠে, ত্বকে ফাটল দেখা দেয় এবং চুলকানোর ফলে আক্রান্ত স্থানগুলো থেকে কখনও কখনও পানির মত কিছুটা গাঢ় পরিষ্কার তরল পদার্থ বের হয়ে আসে৷ পরবর্তীতে সেখানে কালো স্পট পড়তেও দেখা যায়৷

শিশুদের ক্ষেত্রে পুরো শরীরেই চুলকানি থাকে৷ বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাঁটুর পিছনের অংশ, কনুইয়ের সামনের অংশগুলি বেশি আক্রান্ত হয়৷ প্রাপ্তবয়স্কদের হাত ও পা বেশি আক্রান্ত হয়৷ এছাড়া শরীরের অন্যস্থানও আক্রান্ত হতে পারে৷

একজিমার প্রকৃত কারণ এখনো অজানা৷ তবে ধারণা করা হয় জেনেটিক বা বংশগত কারণ ও ইমিউন সিস্টেমের ত্রুটিপূর্ণ কাজ অন্যতম৷ যাদের বংশে বা পরিবারে একজিমা, হাঁপানি, হে ফিভার বা খড় জ্বর থাকে তাদের এ সমস্যা বেশি হয়৷ এমন ব্যক্তিদের বলা হয় অ্যাটোপিক পারসন বা ব্যক্তি৷ তাদের বিভিন্ন পরিবেশে, এলার্জেন, ধুলোবালি, শুস্ক আবহাওয়া ও বিশেষ কিছু খাবারের কারণে এই রোগের প্রকটতা বেড়ে যায়৷

অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস রোগে মূলত রোগের লক্ষণ দেখে ডাক্তাররা নির্ণয় করে থাকেন৷ এর জন্য তেমন কোন পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না৷ যেহেতু রোগের প্রকৃত কারণ এখনও অজানা, সেহেতু এর সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই যার দ্বারা রোগটি নিরাময় করা যায়৷ এটিকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ বলা হয়৷ চিকিৎসার মাধ্যমে এর প্রকটতা নিয়ন্ত্রনে রাখা হয়৷

অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিসের চিকিৎসা মূলত এন্টিহিস্টামিন ও টপিক্যাল স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়৷ এছাড়া রোগের লক্ষণ, প্রকটতা ও ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের জন্য ডাক্তররা প্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক ও মুখে স্টেরয়েড দিয়ে থাকেন৷ এছাড়া ভিটামিন-ডি ও প্রোবাওটিকের ভূমিকা রয়েছে বলে গবেষণায় জানা যায়৷

অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস বা একজিমা হতে ভালো থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বাস্থ্য সচেতনতা৷ যেমন যেসব পরিবেশে বা খাবারের কারণে চুলকানি হয় তা পরিহার করা৷ ধুলোবালি, রোদ, সিগারেটের ধোঁয়া এড়িয়ে চলা৷ সুঁতি কাপড় পরিধান করা৷ সাবান, স্যাভলন বা ডেটল পরিহার করা বা কম ব্যবহার করা বা কম ক্ষারীয় সাবান ব্যবহার করা বা সাবানের পরিবর্তে শরীরে শ্যাম্পু ব্যবহার করা৷ খুব অল্প সময়ে গোসল করা, ৫ থেকে ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে গোসল না করা৷ গোসলে ঠান্ডা পানির পরিবর্তে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা৷ সবসময় শরীরে লোশন, তেল বা ভ্যাজলিনের মত পেট্রোলিয়াম ব্যবহার করে দেহের আর্দ্রতা বজায় রাখা৷

লেখক: ডা. মুহাম্মাদ আনিসুর রহমান

চিকিৎসক ও প্রাবন্ধিক

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017-2023 Jagannathpurnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com