লিবিয়া থেকে নৌপথে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাত যুবক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। গত ৩ আগস্টের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। এ ঘটনায় নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় সম্প্রতি বাংলাদেশিদের মৃত্যুর পাশাপাশি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে একটি নৌযানের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।
মিশরের মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম তার মামা সাংবাদিক মান্নার মিয়াকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, তারা ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে নৌযানে রওনা হয়েছিলেন। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌযানের ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। এতে তারা আর সামনে এগোতে পারেননি।
আব্দুল করিম বলেন, তার সঙ্গে একই নৌযানে শান্তিগঞ্জ উপজেলার আরও তিনজন ছিলেন। তারা হলেন—ডুংরিয়া গ্রামের ইছন আলীর ছেলে সুহেল মিয়া, হরিপুর গ্রামের হোসাইন এবং পাগলা গ্রামের রান্টু চন্দ্র পালের ছেলে হৃদয় পাল।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল করিম বলেন, ‘আমি মাতরুহ হাসপাতালে ভর্তি আছি। এখানকার চিকিৎসকরা আমাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। তারা আমাদের ওষুধ ও ভালো খাবারেরও ব্যবস্থা করছেন। আমাদের বাঁচান। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই।’
এদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার রনসী গ্রামের বাসিন্দা এবং চিকারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোরশেদ আলম জানান, তার চাচাতো ভাই রনসী গ্রামের মো. তালহা আলম, বাবা একলাছ উদ্দিন, গত ৩ আগস্টের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন।
অপরদিকে চিকারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম নাঈম জানান, একই গ্রামের এনামুল খান, মামুন খান ও রিপন মিয়া নামে তিন যুবক লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে গত ৩ আগস্টের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে তিনি পরিবারের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন।
নিখোঁজ সাত যুবকের সন্ধান না পাওয়ায় তাদের পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিখোঁজদের অবস্থান ও পরিচয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারগুলো।
Leave a Reply