নিজস্বপ্রতিবেদক: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সরকারি রাজস্ব বাজেটের আওতায় অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তকরণে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আল আমিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কোনো টেন্ডার বা কমিটি গঠন ছাড়াই নিজের পছন্দমতো নিম্নমানের পোনামাছ সংগ্রহ করে তিনি তা অবমুক্ত করেন।অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজস্ব খাতের এক লাখ টাকা বরাদ্দের পোনামাছ প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে অবমুক্তকরণের জন্য ই-টেন্ডারে কয়েকজন ঠিকাদার কাগজপত্র দাখিল করলেও বিভ্রান্তিকর অজুহাত দেখিয়ে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করেন মৎস্য কর্মকর্তা। পরে তিনি নিজেই পোনামাছ কিনে অবমুক্ত করেন। এদিকে পোনামাছ অবমুক্ত করার উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর আহমেদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য কয়ছর আহমেদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন।পোনামাছ অবমুক্ত করার দরপত্রে অংশ নেয়া ঠিকাদার মঈন উদ্দিন,তারেক আহমদ ও জুয়েল আহমদ অভিযোগ করেন, নিয়ম মেনে টেন্ডার ড্রপ করা সত্ত্বেও মৎস্য কর্মকর্তার সরাসরি হস্তক্ষেপে তা বাতিল করেন। কাউকেই স্বাভাবিক নিয়মে টেন্ডার ফেলতে দেওয়া হয়নি এবং মৎস্য কর্মকর্তা আল আমিন নিজেদের ব্যবস্থাপনায় নিম্নমানের মৃত অর্ধমৃত পোনা নিয়ে আসে। মঈন উদ্দিন সহ পোনামাছ অবমুক্তে অংশ গ্রহণকারীরা বলেন তড়িঘড়ি করে ২৬৭ কেজি পোনামাছ সরবরাহ ও বিতরণ করার নামে নামমাত্র পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য কর্মকর্তা অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সরকারের মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ এর পায়তারা করছেন।এ ব্যাপারে ওই মৎস কর্মকর্তার বিরুধ্বে ব্যবস্হা নেওয়ার দাবী জানান তারা।এমনকি স্থানীয় সাংবাদিকদের পোনাঅবমুক্ত করার খবর জানানো হয়নি। এ বিষয়ে মৎস কর্মকর্তা আল আমিন কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন, আমি কি আমার মেয়ের বিয়ে লাগাইসি যে সাংবাদিক দের বলতে হবে! আমি সাংবাদিক দের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়! তিনি বলেন,আমি নিয়ম মেনেই পোনা ছেড়েছি। জগন্নাথপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক জুনায়েদ আহমদ হামজা জানান, কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে টেন্ডার ছাড়াই পোনা কেনা ও বিতরণ করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, পোনামাছ অবমুক্ত করার উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে অব্যবস্থাপনা ছিল। এ নিয়ে মৎস্য কর্মকর্তা কে সর্তক করা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Leave a Reply