নিজস্বপ্রতিবেদক: দারিদ্র্যতা যেখানে শিক্ষার পথ থামিয়ে দেওয়ার উপক্রম হচ্ছিল ঠিক সেই সময় মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ইউএনও হিসাবে পরিচিত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন। অর্থাভাবে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে না পারা জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী ছাত্রী ছাইমা বেগমের ভর্তির দায়িত্ব নিয়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ইউএনও মোঃ ইছলাম উদ্দিন ।জানা যায়, জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইসহাকপুর গ্রামের দিনমজুর আব্দুল রহমান ও জেসমিন বেগম দম্পতির ছোট মেয়ে ছাইমা বেগম। সে ইসাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সেশনে এসএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল করে জিপিএ-৫ অর্জন করে।কিন্তু অভাবের সংসারে যেখানে অসুস্থ বাবার চিকিৎসার খরচ এবং ভাই-বোনদের নিয়ে পরিবারের আহার জোগানোই দুষ্কর, সেখানে ছাইমার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ফিকে হতে বসেছিল।১ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে ছাইমা সবার ছোট। হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে ভর্তির খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় তার লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। ছাইমা বেগম সিলেট মদনমোহন কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। এ খবর পেয়ে মেধাবী ছাইমার শিক্ষার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে তাৎক্ষণিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন। তিনি ছাইমার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির যাবতীয় ব্যবস্থা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। তিনি মদন মোহন কলেজে ভর্তি ও থাকার ব্যবস্তা করে দেন,পরবর্তীতে বই সহ যাবতীয় ব্যবস্হার আশ্বাস দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এই দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপে এলাকাবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। ছাইমার পরিবার এবং সচেতন নাগরিক সমাজ ইউএনও মোঃ ইসলাম উদ্দিনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।এ ব্যাপারে ছাইমা বেগম প্রতিবেদককে জানান, আমার এলাকায় অনেক বিত্তবান লোক থাকার পরও আমার পাশে কেউ দাড়ায়নি, দাঁড়িয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার, আমি স্যারের প্রতি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকবো। স্যার যে আমাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আজ আমি স্যারের জন্য ভর্তি হতে পেরেছি।। সহায়তা পেয়ে আবেগপ্লুত ছাইমা বেগম জানায়, “ভর্তির টাকা না থাকায় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। ইউএনও স্যার পাশে না দাঁড়ালে হয়তো আমার আর পড়ালেখা হতো না। আমি পড়াশোনা শেষ করে ডাক্তার হয়ে দেশ ও সমাজের সেবা করতে চাই।”ছাইমার মা জেসমিন বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান আমার মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। ভালো রেজাল্ট করেও, ভর্তি হতে পারছিল না। আমাদের পাশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় দাঁড়িয়েছেন, মহান আল্লাহ পাক যেন উনাকে উত্তম প্রতিদান দান করেন। আমার মেয়ে ডাক্তার হতে চায়, ডাক্তার হয়ে অসহায় মানুষের সেবা করতে চায়। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।।এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, এটা আমাদের দায়িত্ব ” মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন যেন অর্থের ভাবে থমকে না যায়, সে বিষয়ে আমাদের প্রত্যেকের সচেতন থাকা প্রয়োজন। ছাইমার এই অর্জনে আমরা গর্বিত এবং তার ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।। আমি মেয়েটিকে মদনমোহন কলেজে ভর্তি করিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।।
Leave a Reply