নিজেস্বপ্রতিবেদক: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রমের ই-টেন্ডার বাতিল করে নিম্নমানের পোনা মাছ সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আল আমিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ই-টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।লিখিত অভিযোগে ঠিকাদাররা জানান, উপজেলা মৎস্য দপ্তরের মাধ্যমে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রমের জন্য ই-টেন্ডার আহ্বান করা হলে তারা নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেন। তবে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে সুস্পষ্ট ও আইনানুগ কারণ ছাড়াই ই-টেন্ডারটি বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।অভিযোগে আরও বলা হয়, কোনো কমিটি গঠন না করেই গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আল আমিনের নিজস্ব উদ্যোগে পোনা মাছ সংগ্রহ ও সরবরাহ করে অবমুক্ত করেন। সরবরাহকৃত পোনা মাছের প্রজাতি, আকার, মান ও পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
ঠিকাদারদের দাবি, নিম্নমানের পোনা সরবরাহের কারণে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পোনা অবমুক্তকরণ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।অভিযোগকারীরা ই-টেন্ডার বাতিলের কারণ ও প্রক্রিয়া তদন্ত, পোনা মাছ কোথা থেকে এবং কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে তা যাচাই, সরবরাহকৃত পোনার মান ও পরিমাণ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট বিল-ভাউচার ও ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।এছাড়া অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত পোনা মাছের বিল পরিশোধ স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়েছে।অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ফাতেমা কনস্ট্রাকশন, জিহাদ এন্ড রিফাত কনস্ট্রাকশন, ভাই ভাই মিশিনারীজ ও নাফিজ আহমদ এন্টারপ্রাইজ।এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আল আমিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিব না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারী বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় মৎস্যজিবীরা জানান।
Leave a Reply