মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ভূমধ্যসাগরে গ্রিসগামী নৌকায় ভয়াবহ ট্র্যাজেডি: জগন্নাথপুরের ৩ যুবক নিখোঁজ জগন্নাথপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপিত লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে নিখোঁজ শান্তিগঞ্জের ৭ যুবক জগন্নাথপুরে মই হাওরে নৌকা ডুবির ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের সাথে এমপির সাক্ষাৎ, দিলেন অনুদান জগন্নাথপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শান্তিগঞ্জে এমপি কয়সর আহমেদ, মসজিদ উন্নয়নে দিলেন ৩ লাখ টাকা রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে বৈঠক ডেকেছেন তারেক রহমান দিরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে দুই সন্তানকে হাওরে ফেলে হত্যা, বাবা আটক সুনামগঞ্জ আদালতে চুরির মামলায় হাজিরা দিতে এসে এবার আইনজীবীর মোবাইল চুরি! শান্তিগঞ্জের নবাগত ইউএনও হিল্লোল চাকমা

দ্বিতীয় বিয়ের পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সাবরিনা

দ্বিতীয় বিয়ের পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সাবরিনা

জগন্নাথপুর নিউজ ডেস্কঃ      কোভিড-১৯ টেস্ট নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা চৌধুরী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর বেপরোয়া হয়ে উঠেন।

গ্রেফতারের পর সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন তথ্যই পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তারা জানান, আরিফের সঙ্গে বিয়ের পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সাবরিনা। দুজনে দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও ঠিকাদারি কাজ পেতে নানামুখী তদবির করেন সাবরিনা।

এক্ষেত্রে সাবরিনা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর কয়েকজন নেতাকে কাজে লাগান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করে আসা ডা. সাবরিনা জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরীর চতুর্থ স্ত্রী ছিলেন।

রোববার দুপুরে সাবরিনাকে হাসপাতাল থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তেজগাঁও থানার এক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে করা ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে সাবরিনার স্বামী আরিফুলও কারাগারে আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই দম্পতির জীবনও রূপকথার গল্পের মতো। আরিফের চতুর্থ স্ত্রী সাবরিনা। আরিফের এক স্ত্রী থাকেন রাশিয়ায়, অন্যজন লন্ডনে। আরেকজনের সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তবে ছাড়াছাড়ির পরও সাবেক ওই স্ত্রী উচ্চমহলে আরিফের জন্য দেনদরবার করে যাচ্ছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত সাবরিনার হাত ধরেই করোনার স্যাম্পল কালেকশনের কাজটি ভাগিয়ে নেয় অনেকটা অখ্যাত জেকেজি নামে এই প্রতিষ্ঠান। প্রথমে তিতুমীর কলেজে মাঠে স্যাম্পল কালেকশন বুথ স্থাপনের অনুমতি মিললেও প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার অন্য এলাকা এবং অনেক জেলা থেকেও নমুনা সংগ্রহ করছিলেন তারা।

তবে স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনা টেস্ট করলেও তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের নয়। স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের এক চিকিৎসককে মারধর করেন আরিফ চৌধুরী। পরে এ ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় জিডি করেন ডা. সাবরিনা।

গত ৪ জুন এ জিডি করা হয়। দুই মাস আগে তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সাবরিনা দাবি করেন।

কিন্তু আরিফুল গ্রেফতার হওয়ার পর করোনা সনদ জালিয়াতির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসার পরই স্বামীকে তড়িঘড়ি তালাক নোটিস পাঠান সাবরিনা।

সাবরিনার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। তার বাবা সাবেক সচিব সৈয়দ মোশাররফ হোসেন। তিনি ঢাকার শ্যামলীর পিসি কালচার রোডের নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। তার দুই মেয়ের মধ্যে ডা. সাবরিনা বড়।

সাবরিনা ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি ও পরে এইচএসসি পাস করেন। এরপর এমবিবিএস পাস করেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে।

সাবরিনার প্রথম স্বামীর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, তিনি টেলিফোন সেবা সংক্রান্ত একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। সাবরিনা ২৭তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারের চাকরি পাওয়ার পর তার প্রথম পোস্টিং হয় দিনাজপুরে। পরে বদলি হয়ে আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে যোগ দেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে।

সুত্রঃ যুগান্তর

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017-2026 Jagannathpurnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com