এদিকে জাতীয় নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের দায় স্বীকার করে নিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। লেবার পার্টির কাছে ভয়াবহ পরাজয়ের পর তিনি সমর্থকদের বলেছেন, বৃটিশ জনগণ একটি দুঃখজনক রায় দিয়েছে। এখান থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। এই পরাজয়ের দায় নিচ্ছি আমি। এই পরাজয়ের ফলে যুক্তরাজ্যে টানা ১৪ বছর পর ক্ষমতা থেকে সরে গেল কনজারভেটিভ পার্টি।
ওদিকে লেবার পার্টির নেতা কিয়ের স্টারমার বলেছেন, ‘পরিবর্তন এখন থেকেই শুরু হলো।’ উচ্ছ্বসিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দিত।’
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।
এবারের নির্বাচনে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৯৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়।
৩৫টি রাজনৈতিক দল মাত্র একজন করে প্রার্থী দেয়।
রেকর্ড ভেঙে এবার ৪ হাজার ৫১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। একেকটি আসনে গড়ে ৭ জন করে প্রার্থী। ৩১৭টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪৫৯ জন।
যুক্তরাজ্যে এবারের সাধারণ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের মনোনিত প্রার্থীসহ ৩৪ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। যাদের মধ্যে (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) আবারো জয় পেয়েছেন লেবার পার্টির প্রার্থী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। এই জয়ের মাধ্যমে টানা চতুর্থবারের মতো এমপি নির্বাচিত হলেন তিনি। এছাড়া আরেক বাংলাদেশি পপলার অ্যান্ড লাইমহাউস আসন থেকে লেবার পার্টির আপসানা বেগম ১৮ হাজার ৫৩৫ ভোট পেয়ে ২য় বার জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রিন পার্টির নাথালি বেইনফিট পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৭৫, কনজারভেটিভ পার্টির ফ্রেডি ডউনিং ৪ হাজার ৭৩৮, স্বতন্ত্র প্রার্থী আপসানার সাবেক স্বামী এহতেশামুল হক ৪ হাজার ৫৫৪ ভোট পেয়েছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জগন্নাথপুর উপজেলার পার্শ্ববর্তী বিশ্বনাথের মেয়ে রুশনারা আলী লেবার পার্টি থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসন থেকে জয় পেয়েছেন তিনি। দেশটির পার্লামেন্টের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী। তার জন্ম সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ।
এবারের সরকারে তার মন্ত্রীত্ব লাভের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেকে। অন্য দিকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রুপা হক ও ২য় বারের মত যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। বৃটিশ- বাংলাদেশী কন্যাদের জয়জয়কার – এ বৃটেনে তাদের নির্বাচনী এলাকায় ও বাংলাদেশে তাদের মাতৃভূমি তে আনন্দ – উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
এর আগে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া দলকে সরকার গঠন ও দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আহ্বান জানাবেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস।
দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া দল পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী দল হবে। আর দলটির নেতা প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হবেন।
৯ জুলাই নির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণ ও স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ জুলাই রাজা তৃতীয় চার্লসের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে বলে জানা গেছে।
ছবি: বৃটেনে পার্লামেন্টে নির্বাচিত এমপি রুশনারা আলী উপরে
নীচে বা থেকে টিউলিপ সিদ্দিক, রুপা হক, আফসানা বেগম।
Leave a Reply