মঙ্গলবার, ১৬ Jun ২০২৬, ০৭:২৯ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের দুই বলয় থেকে দুই জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।ভাইস চেয়ারম্যান পদেও দুইবলয়ের প্রার্থী রয়েছে দুই জন। ফলে ক্ষমতাসীন দলের বিবদমান নেতাকর্মীরা প্রচারনায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
জানা যায় ,২০০৫ সালে জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব এম এ মান্নান। তখন আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় আজিজুস সামাদ প্রার্থী হননি।
ওই নির্বাচনে তৎকালীন ৪দলীয় জোটের প্রার্থী জমিয়ত নেতা মাওলানা শাহিনূর পাশা চৌধুরীর নিকট পরাজিত হন এম এ মান্নান।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে এম এ মান্নান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এসময় থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত সামাদ পুত্র আজিজুস সামাদ ডন নিজের বলয় তৈরি করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৪ সালে আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান এম এ মান্নান। এসময় আজিজুস সামাদ ডন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দুই নেতার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েন। এরপর থেকে সকল স্হানীয় নির্বাচনে দুই বলয়ের প্রার্থী থাকতে দেখা যায়। যার ধারাবাহিকতায় এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আকমল হোসেন। তিনি স্হানীয় এমপি পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের আশীর্বাদপুষ্ট হিসেবে পরিচিত। অপরজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমেদ মুক্তা তিনি স্হানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আজিজুস সামাদ ডন এর আশীর্বাদপুষ্ট হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলয়ের উপজেলা যুবলীগ সহ সভাপতি ছালেহ আহমেদ ও উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লালন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। এ পদে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আজিজুস সামাদের অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দ্ধীপ সূত্রধর বীরেন্দ্র প্রার্থী হয়েছেন।
কেন্দ্রের নির্দেশ মোতাবেক এ নির্বাচনে বিএনপির কোন প্রার্থী না থাকায় মূলত এখানে আওয়ামীলীগ ই আওয়ামীলীগের প্রতিদ্বন্দ্বী।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমেদ মুক্তা সোমবার যুগান্তর কে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় দলের অনেক নেতাকর্মীদের আহ্বানে এবং এলাকাবাসীর চাপে আমি প্রার্থী হয়েছি। তিনি বলেন,দলীয় মনোনয়নে জনপ্রত্যাশা পূরন হয়নি। আমি দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থেকে এ উপজেলার প্রগতিশীল রাজনৈতিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছি। আশা করছি জনগন এতে সাড়া দিবেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন বলেন, এবারের নির্বাচনে কোন বলয় নয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে এবার নৌকার পক্ষে কাজ করবে এটা প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেন, জনগন উন্নয়নের পক্ষে আমাকে নির্বাচিত করবে বলে আমি আশাবাদী।
উল্লেখ্য, ২ নভেম্বর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন কে সামনে রেখে ৬ অক্টোবর প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র দাখিলকারীরা হলেন,আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন, বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমেদ, জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্বাস উদ্দিন চৌধুরী লিটন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ তুহেল আহমেদ,সাবেক ছাত্র দল নেতা আব্দুল মতিন লাকি,উপজেলা যুবলীগ সহ সভাপতি ছালেহ আহমেদ,সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লালন,উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দ্বীপ সূত্রধর বীরেন্দ্র। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন সুফিয়া খানম, রিনা বেগম ও সেলিনা বেগম।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫ জন পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তিনজন নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। প্রার্থীতা প্রত্যাহার ১৭ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ ১৮ অক্টোবর ও ভোট গ্রহণ ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এবার প্রথম বারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতি ইভিএম এ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
Leave a Reply