মঙ্গলবার, ১৬ Jun ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
৭৭ বছরের বৃদ্ধা মা কাঞ্চন বিবি ঔরসজাত ৭ ছেলে থাকা সত্ত্বেও অনাহারে- অর্ধাহারে দিন কাটছিল।
সন্তানের অযত্ন -অবহেলায় খুবই কষ্টে কাটছিল কাঞ্চন বিবির দিন।
দীর্ঘদিন ধরে সন্তানরা তাঁদের মায়ের ভরনপোষণ নিচ্ছেন না। ছেলেদের দূর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মিজানুর রহমান নির্যাতিতা বৃদ্ধা মা ও ছেলেদের কে থানায় ডেকে এনে সমঝোতা করে দেন। এ সময় অভিযুক্ত ছেলেরা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকতার সামনে মায়ের ভরনপোষনের অঙিকার করে।
থানা কম্পাউন্ডে হওয়া বৈঠকে ছিলাউরা হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল সহ স্হানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্হিত ছিলেন।
জানা গেছে, উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া গ্রামের মৃত. রুস্তম আলীর স্ত্রী কাঞ্চন বিবির ৭ ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। এরমধ্যে ৫ ছেলে প্রবাসী ও দুই মেয়ে বিবাহিত। বাড়িতে দুই ছেলে বসবাস করছেন। স্বামী রুস্তম উল্যার মৃত্যুর পর স্ত্রীর নামে রেখে যাওয়া ৪০ শতক জায়গা দুই সন্তান ইতালি প্রবাসী তৌরিছ মিয়া ও বাড়িতে থাকা ফরুক মিয়া কৌশলে তাদের নামে রেজিষ্ট্রি করে নেয়। এ নিয়ে অপর সন্তানরাও মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর ভরনপোষণের খরচ বন্ধ করে দেয়। এঘটনায় মঙ্গলবার জগন্নাথপুর থানায় মা ও ছেলেমেয়েদের নিয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় এক বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয়পক্ষের ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয়।
কাঞ্চন বিবি জানান, ছেলে-মেয়েদের অযত্ন অবহেলায় প্রায় একা হয়ে পড়ি। সন্তানরা তাঁর ভরণপোষণ বন্ধ করে তাকে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়। তাদের দূর্ব্যবহারে নিরুপায় হয়ে আমি পুলিশের শরণাপন্ন হলে পুলিশ সন্তানের ডেকে এনে তার ভরণপোষণ দিতে অনুরোধ করায় সন্তানরা ভরনপোষণ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
ওই নারীর ছেলে ফারুক আহমদ বলেন, মায়ের সাথে জায়গা জমি নিয়ে আমাদের মানসিক দূরত্ব ও ভুলবুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এখন ভুল বুঝাবুঝির সমাধান হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, মায়ের ভরণপোষণ দিচ্ছে না সন্তানরা। দু:খ কষ্টে দিন কাটছিল বৃদ্ধা মায়ের। এ খবর শুনে মর্মাহত হয়ে ছেলেদের ডেকে এনে বুঝানোর পর তাঁরা মায়ের ভরণপোষণ দিতে সম্মত হয়। এছাড়াও মায়ের কাছ থেকে কৌশলে রেজিষ্ট্রি করে নেওয়া জায়গা দুই ভাই মায়ের নামে ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
Leave a Reply