মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, ফেসবুক পোস্টে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী এসএসসির ফল প্রকাশ, পাশের হার ৬২.২৫ শতাংশ শান্তিগঞ্জে এসএসসিতে পাসের হার ৬৩.৪৬%, জিপিএ-৫ মাত্র ১০ জগন্নাথপুরে নৌকা ডুবিতে চার জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা বিএনপির শোক বিএনপি নেতা নান্নু’র পিতার মৃত্যুতে জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির শোক সাকিবের আর দেশে ফেরার সুযোগ নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থান শেষ হয়নি: নাহিদ শান্তিগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের বক্তব্যের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ শান্তিগঞ্জে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে মানহানির অভিযোগ, থানায় জিডি শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

শান্তিগঞ্জে এসএসসিতে পাসের হার ৬৩.৪৬%, জিপিএ-৫ মাত্র ১০

শান্তিগঞ্জে এসএসসিতে পাসের হার ৬৩.৪৬%, জিপিএ-৫ মাত্র ১০

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি::
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার এবারের ফলাফলে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পাসের হারে কিছুটা পিছিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। উপজেলায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৩.৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী।
এদিকে, উপজেলার ৭টি দাখিল মাদ্রাসায় পাসের হার ৫৭.৫৯ শতাংশ। তবে কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পায়নি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ১৫টি বিদ্যালয় থেকে মোট ৯৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৬০৬ জন উত্তীর্ণ এবং ৩৪৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে।
বিদ্যালয়গুলোর ফলাফলে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে গাগলি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩ জন উত্তীর্ণ ও ৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮১.২৫ শতাংশ। কোন জিপিএ -৫ পায়নি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাতগাঁও জীবদাড়া উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ জন উত্তীর্ণ এবং ৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৬.৬৭ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। তৃতীয় স্থানে রয়েছে জয়কলস উজানীগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৬ জন উত্তীর্ণ এবং ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৪.১৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে ডুংরিয়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ। ৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জন উত্তীর্ণ এবং ১৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৩.৯১ শতাংশ। কোনো জিপিএ-৫ নেই।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে পূর্ব পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়। ২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন উত্তীর্ণ ও ৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৩.৮০ শতাংশ। কোনো জিপিএ-৫ নেই। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে আব্দুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়। ৭৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫২ জন উত্তীর্ণ এবং ২৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৯.৩৩ শতাংশ। কোনো জিপিএ-৫ নেই। সপ্তম স্থানে রয়েছে গণিনগর ষোলগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়। ৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৮ জন উত্তীর্ণ এবং ১৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৯.০৯ শতাংশ। কোনো জিপিএ-৫ নেই। অষ্টম স্থানে রয়েছে সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। ৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬২ জন উত্তীর্ণ এবং ২৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৮.১৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। নবম স্থানে রয়েছে নোয়াখালী সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়। ৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জন উত্তীর্ণ ও ১৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। কোনো জিপিএ-৫ নেই। দশম স্থানে রয়েছে পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়। ৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন উত্তীর্ণ এবং ২৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৩.০৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। ১১তম স্থানে রয়েছে জেবিবি উচ্চ বিদ্যালয়। ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জন উত্তীর্ণ ও ১৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬১.৫৪ শতাংশ। কোনো জিপিএ-৫ নেই।
১২তম স্থানে রয়েছে আব্দুল গফুর উচ্চ বিদ্যালয়। ২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬ জন উত্তীর্ণ এবং ১৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৫.১৭ শতাংশ। কোনো জিপিএ-৫ নেই।
১৩তম স্থানে রয়েছে পাগলা মডেল সরকারি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ১৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০১ জন উত্তীর্ণ এবং ৮২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৫.১৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। ১৪তম স্থানে রয়েছে বীরগাঁও ইমদাদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়। ৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২ জন উত্তীর্ণ এবং ৩২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫০ শতাংশ। কোনো জিপিএ-৫ নেই।
সর্বশেষ ১৫তম স্থানে রয়েছে ঈশাঁখপুর শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়। ৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জন উত্তীর্ণ এবং ৩৮ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৭.২২ শতাংশ। কোনো জিপিএ-৫ নেই।
দাখিল পরীক্ষায়ও হতাশাজনক ফল
উপজেলার ৭টি মাদ্রাসা থেকে এবার মোট ২৫৭ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১৪৮ জন উত্তীর্ণ এবং ১০৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৫৭.৫৯ শতাংশ। তবে কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পায়নি। দাখিল পরীক্ষায় পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে আক্তাপাড়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। ৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৫ জন উত্তীর্ণ এবং ২২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭১.৪৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঘোড়াডুম্মুর হাফিজিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। ৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ জন উত্তীর্ণ এবং ১২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৭.৫৭ শতাংশ।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে জামেয়া হাজী আক্রম আলী দাখিল মাদ্রাসা। ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ জন উত্তীর্ণ ও ১৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৮.৯৭ শতাংশ। চতুর্থ স্থানে রয়েছে বীরগাঁও ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ জন উত্তীর্ণ ও ৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৪.৫৫ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে আমরিয়া ইসলামিয়া আলীম মাদ্রাসা। ২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩ জন উত্তীর্ণ এবং ১২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫২ শতাংশ।
ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে দামোধরতপী মাহমুদপুর দাখিল মাদ্রাসা। ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন উত্তীর্ণ ও ২৫ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৫.৬৫ শতাংশ।
সর্বশেষ সপ্তম স্থানে রয়েছে উমেদনগর হযরত শাহজালাল (রহ.) দারুছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা। ২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫ জন উত্তীর্ণ এবং ১৭ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২২.৭৩ শতাংশ।
ফল খারাপের কারণ জানালেন শিক্ষা কর্মকর্তা
শান্তিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, “এবার পাসের হারে আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি। আমি মনে করি, পরীক্ষা পদ্ধতি ও পরীক্ষা হলে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেটে আসক্তি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে শিক্ষকদের যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়া এবং অভিভাবকদের কিছুটা সচেতনতার অভাবও এর জন্য দায়ী।”
তিনি আরও বলেন, “আগামীতে এসব সমস্যা আমরা যদি মোকাবিলা করতে পারি, তাহলে আমাদের আরও ভালো ফলাফল করা সম্ভব হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017-2026 Jagannathpurnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com