সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ন
জগন্নাথপুর নিউজ ডেস্ক: সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতির মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত ৩৬ জনের তালিকায় পাপনের নাম ৩২ নাম্বারে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সংরক্ষিত আসনে মনোনীত নাদিয়া পাঠান পাপন বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য। তার মা সৈয়দা নাখলু আক্তার বিজয়নগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাদিয়া পাঠান পাপন ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য পদে দায়িত্বে রয়েছে। অন্যদিকে, তার মা সৈয়দা নাখলু আক্তার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং দলটির মনোনয়নে জেলা পরিষদের সদস্য পদে দায়িত্বও পালন করেছেন।
সৈয়দা নাখলু আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, আমি আরও আগেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। আমি বর্তমানর কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। আমার মেয়ে ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতি করত। রাজনীতি নিয়ে আমাদের মা-মেয়ের মাঝে কখনো কোনো মতানৈক্য হয়নি। মেয়ে এমপি হলে মায়ের যে অনুভূতি হওয়ার কথা, আমারও ঠিক তেমনটাই হচ্ছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, নাদিয়া পাঠান শুধু পদধারী নেত্রীই নন বরং রাজপথের আন্দোলনেও ছিলেন সক্রিয়। বিশেষ করে গত জুলাই অভ্যুত্থানে তিনি সরাসরি মাঠে থেকে লড়াই করেছেন। শ্বশুরবাড়ি ঢাকায় হওয়ার সুবাদে তিনি ঢাকাতেই তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।
পাপনের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নাই। মা সৈয়দা নাখলু আক্তার আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, আর তার মেয়ে আজ বিএনপির সংসদ সদস্য মনোনীত হলেন।
তবে বিজয়নগরের সন্তান হিসেবে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি নাদিয়াকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
মায়ের প্রসঙ্গে পাপন বলেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাসসহ অসংখ্য মামলা হামলার স্বীকারের সময় তো কেউ এ সব প্রশ্ন করেনি? প্রধানমন্ত্রী যাচাই-বাছাই করেই মনোনয়ন দিয়েছেন। এখন এসব নিয়ে চিন্তা করার সময় নেই। এখন তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করায় প্রধান কাজ।
সূএ: যুগান্তর।।
Leave a Reply