রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম অলইতলী ও কাতিয়া মাদরাসার প্রবীণ মুহতামিম, প্রখ্যাত বুজুর্গ আলেম শায়খে কাতিয়া হযরত মাওলানা আমিন উদ্দীন (রহ.)-এর বড় সাহেবজাদা হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ আমিনীর নামাজে জানাজা আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক কাতিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে মরহুমের বিশাল জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের ছোট ভাই, শায়খে কাতিয়া (রহ.)-এর তৃতীয় সাহেবজাদা কানাডা প্রবাসী মাওলানা ইউসুফ আমিনী। জানাজা শেষে মাদরাসার পশ্চিম পাশে অবস্থিত পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে বিশিষ্ট এই আলেমকে শেষ বিদায় জানাতে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ওলামায়ে কেরাম ও সর্বস্তরের হাজার হাজার শোকাহত ধর্মপ্রাণ মানুষ কাতিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে এসে উপস্থিত হয়ে জানাজায় অংশ নেন।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, শান্তিগঞ্জের জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম দরগাহপুর মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা নুরুল ইসলাম খানছাব হুজুর, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা ছাদ, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এম. এ. মুকিত, সিলেট জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট ইয়াসীন খান,উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মাওলানা লুৎফুর রহমান ও সেক্রেটারি আফজাল হোসাইন,
জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক মোঃ সানোয়ার হাসান সুনু
সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
জানাজাপূর্বে মরহুমের কর্মময় জীবনের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করে বক্তারা বলেন, দেশবরেণ্য আলেম শায়খে কাতিয়া (রহ.)-এর ইলমি ও আধ্যাত্মিক যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ আমিনী মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাতিয়া মাদরাসার মুহতামিম হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে অত্র অঞ্চলের দ্বীনি শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হয়। তিনি তাঁর বাবার প্রদর্শিত পথে অপসংস্কৃতি ও ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সর্বদা প্রতিবাদী ও সোচ্চার ছিলেন। ইসলামী মূল্যবোধে আলোকিত সমাজ গঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গেছেন। তাঁর এই স্থায়ী বিদায়ে পুরো সিলেট বিভাগের আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে এক অপূরণীয় শূন্যতা ও শোকের আবহ বিরাজ করছে। বক্তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন, শান্তিগঞ্জের জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম দরগাহপুর মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা নুরুল ইসলাম খানছাব হুজুর, মাওলানা ইউসুফ আমিনী, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হোরায়রা ছাদ, অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহিম শাহিন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সিলেট নগরীর আল-হারামাইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হাফেজ মাওলানা হাজী ইমদাদুল্লাহ আমিনী (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি ৪ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ দেশ-বিদেশে অসংখ্য গুণগ্রাহী, ছাত্র ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
জানাযায়, সম্প্রতি পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিলেটের আল-হারামাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (ICU) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরন করেন। প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন মাওলানা শায়েখ ইমদাদ উল্যাহ তিনির পিতা মাওলানা আমিন উদ্দিন রহ: আলাইহি শায়খে কাতিয়ার মতো সহজ-সরল জিবন-যাপন করতেন। ৃ ইসলামের প্রসারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
Leave a Reply