বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
হাওর পরিদর্শন করলেন জগন্নাথপুরের ইউএনও জগন্নাথপুরের হাওর গুলােতে পাকা ধান পানির তলে, কৃষকের হাহাকার নবাগত ইউএনও’র সাথে জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় জগন্নাথপুরে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, সহযোগী দুই যুবক গ্রেফতার মেয়েকে বিএনপির মনোনয়ন, খুশি আ.লীগ নেত্রী! জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরাম এর আহ্বায়ক কমিটির সভায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত জগন্নাথপুরে স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন  জগন্নাথপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর নিহত: সড়ক অবরোধ জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামের নাম ব্যবহার করার প্রতিবাদ লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের হালখাতা

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের হালখাতা

জগন্নাথপুর নিউজ ডেস্ক::
‘মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো করে এভাবে না ভাবলেও নতুন বছরে পুরনো দিনের হিসাব শেষ করতে চান ব্যবসায়ীরা।
গত বছরের সব দেনাপাওনা মিটিয়ে নতুন বছর থেকে হিসাবের নতুন খাতা খোলেন তারা। পুরনো হিসাবের খাতা বন্ধ ও নতুন খাতা খোলার আনন্দ-আয়োজন, আপ্যায়ন ও আনুষ্ঠানিকতার নামই হালখাতা। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে পহেলা বৈশাখসহ সার্বজনীন সকল উৎসব।
বৈশাখবরণে বাঙালির আয়োজনের কোনো কমতি নেই। তবে নববর্ষকে সামনে রেখে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হালখাতা প্রথাটি আগের মতো চোখে পড়েনা। কালের বিবর্তনে, কালের গর্ভে হারাচ্ছে বাঙালির প্রাণের এ উৎসব। বৈশাখের প্রথম দিন গ্রামবাংলা, শহরে, ছোট-মাঝারি-বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালখাতার আয়োজন করা হতো।
এ উপলক্ষে ছাপানো হতো নিমন্ত্রণপত্র, চলতো নানা আয়োজন, উৎসব উদ্দীপনার মধ্যে অনুষ্ঠিত হতো হালখাতা উৎসব। গ্রামের হালখাতাতে ব্যবসায়ীরা বৈশাখের প্রথম দিনে সকালে এসে দোকান পরিস্কার করে কাগজের ফুল দিয়ে বর্ণিল সাজে সাজাতো। ক্রেতাকে আপ্যায়ন করতো জিলাপি, খাজা, দই চিড়া ও মুড়ি দিয়ে।
আর শহরের ব্যবসায়ীরা হালখাতার দিনে নানা রঙয়ের আলোকসজ্জার মাধ্যমে দোকানকে বর্ণিল সাজে সাজাতো। আর খরিদ্দারকে আপ্যায়ন করার জন্য মিষ্টান্ন, পোলাও মাংস ব্যবস্থা রাখতো। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যর এই প্রাণের হালখাতা উৎসব ‌যেন আজ আধুনিক যুগের অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ক্রেডিট কার্ড আর ডেবিট কার্ড এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির পৃথিবীর কাছে এখন হারানোর পথে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, মোগল সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। আর এর সঙ্গে শুরু হয় বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাটের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। মোগল আমল থেকেই পয়লা বৈশাখে অনুষ্ঠান করা হতো। প্রজারা চৈত্র মাসের শেষ পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করতেন এবং পয়লা বৈশাখে জমিদাররা প্রজাদের মিষ্টি মুখ করানোর পাশাপাশি আনন্দ উৎসব করতেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ী ও দোকানদার পহেলা বৈশাখে হালখাতা করতেন।
এ বিষয়ে কয়েকজন প্রবীণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আগে হালখাতা উৎসব অন্যরকম একটা আনন্দ ছিলো। ব্যাপক পরিসরে উৎসব আনন্দে হালখাতা পালন করা হতো। কিন্ত বর্তমানে চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা প্রায় সবাই ইংরেজী মাসের ওপর ভিত্তি করে আয় ব্যয় করেন। নগদ বিক্রি অথবা বাকি লেনদেন সবই হয় ইংরেজী মাসের ওপর ভিত্তি করে। তাই ধীরে ধীরে পহেলা বৈশাখে হালখাতা উৎসব হারিয়ে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017-2023 Jagannathpurnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com