মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
জগন্নাথপুরে ষাঁড়ের লড়াই ও ইসলাম বিরুধী কার্যকলাপ বন্ধের দাবীতে  গনসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল  পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বন্ধ থাকলে বুঝব ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’: শিক্ষামন্ত্রী আলোচনা ব্যর্থ ঘোষণার পরেই পাকিস্তান ছাড়লেন মার্কিন প্রতিনিধি হাওর রক্ষাবাঁধে দুর্নীতির প্রতিবাদে জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জে মানববন্ধন  জগন্নাথপুরে ৮০ লিটার বাংলা মদসহ গ্রেফতার ১ ভূমধ্যসাগরে মৃত্যু; জগন্নাথপুর থানায় ৫ দালালের  বিরুদ্ধে মামলা  জগন্নাথপুরের নিহত ৫ যুবকের পরিবারে বুক ফাটা কান্না, আর যেন কেউ অন্ধকার পথে পা না বাড়ায়   জগন্নাথপুরে উপজেলা ও পৌর  পূজা উদযাপন পরিষদের সন্মেলন অনুষ্ঠিত  ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: জগন্নাথপুরের ৫ যুবকের সলিল সমাধি, এলাকায় শোকের মাতম সংসদে প্রধানমন্ত্রী; পুনরায় জনপ্রতিধিত্বশীল সংসদের যাত্রা শুরু

শরীরে একজিমা হলে করণীয় কী?

শরীরে একজিমা হলে করণীয় কী?

শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের নারী পুরুষ অনেকেই চুলকানি নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসেন৷ এসব রোগীদের বিভিন্ন চর্মরোগের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত যে রোগটি সেটি হলো অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস (AD), যা একজিমা নামে বহুল পরিচিত৷ আজকে আলোচনা করবো একজিমা কী, কেন হয় এবং এতে করণীয় সম্পর্কে৷

অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস বা একজিমা ত্বকের এক ধরণের প্রদাহ৷ এর ফলে ত্বক প্রচুর চুলকায়, লালচে হয়ে ফুলে উঠে, ত্বকে ফাটল দেখা দেয় এবং চুলকানোর ফলে আক্রান্ত স্থানগুলো থেকে কখনও কখনও পানির মত কিছুটা গাঢ় পরিষ্কার তরল পদার্থ বের হয়ে আসে৷ পরবর্তীতে সেখানে কালো স্পট পড়তেও দেখা যায়৷

শিশুদের ক্ষেত্রে পুরো শরীরেই চুলকানি থাকে৷ বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাঁটুর পিছনের অংশ, কনুইয়ের সামনের অংশগুলি বেশি আক্রান্ত হয়৷ প্রাপ্তবয়স্কদের হাত ও পা বেশি আক্রান্ত হয়৷ এছাড়া শরীরের অন্যস্থানও আক্রান্ত হতে পারে৷

একজিমার প্রকৃত কারণ এখনো অজানা৷ তবে ধারণা করা হয় জেনেটিক বা বংশগত কারণ ও ইমিউন সিস্টেমের ত্রুটিপূর্ণ কাজ অন্যতম৷ যাদের বংশে বা পরিবারে একজিমা, হাঁপানি, হে ফিভার বা খড় জ্বর থাকে তাদের এ সমস্যা বেশি হয়৷ এমন ব্যক্তিদের বলা হয় অ্যাটোপিক পারসন বা ব্যক্তি৷ তাদের বিভিন্ন পরিবেশে, এলার্জেন, ধুলোবালি, শুস্ক আবহাওয়া ও বিশেষ কিছু খাবারের কারণে এই রোগের প্রকটতা বেড়ে যায়৷

অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস রোগে মূলত রোগের লক্ষণ দেখে ডাক্তাররা নির্ণয় করে থাকেন৷ এর জন্য তেমন কোন পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না৷ যেহেতু রোগের প্রকৃত কারণ এখনও অজানা, সেহেতু এর সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই যার দ্বারা রোগটি নিরাময় করা যায়৷ এটিকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ বলা হয়৷ চিকিৎসার মাধ্যমে এর প্রকটতা নিয়ন্ত্রনে রাখা হয়৷

অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিসের চিকিৎসা মূলত এন্টিহিস্টামিন ও টপিক্যাল স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়৷ এছাড়া রোগের লক্ষণ, প্রকটতা ও ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের জন্য ডাক্তররা প্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক ও মুখে স্টেরয়েড দিয়ে থাকেন৷ এছাড়া ভিটামিন-ডি ও প্রোবাওটিকের ভূমিকা রয়েছে বলে গবেষণায় জানা যায়৷

অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস বা একজিমা হতে ভালো থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বাস্থ্য সচেতনতা৷ যেমন যেসব পরিবেশে বা খাবারের কারণে চুলকানি হয় তা পরিহার করা৷ ধুলোবালি, রোদ, সিগারেটের ধোঁয়া এড়িয়ে চলা৷ সুঁতি কাপড় পরিধান করা৷ সাবান, স্যাভলন বা ডেটল পরিহার করা বা কম ব্যবহার করা বা কম ক্ষারীয় সাবান ব্যবহার করা বা সাবানের পরিবর্তে শরীরে শ্যাম্পু ব্যবহার করা৷ খুব অল্প সময়ে গোসল করা, ৫ থেকে ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে গোসল না করা৷ গোসলে ঠান্ডা পানির পরিবর্তে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা৷ সবসময় শরীরে লোশন, তেল বা ভ্যাজলিনের মত পেট্রোলিয়াম ব্যবহার করে দেহের আর্দ্রতা বজায় রাখা৷

লেখক: ডা. মুহাম্মাদ আনিসুর রহমান

চিকিৎসক ও প্রাবন্ধিক

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017-2023 Jagannathpurnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com