মঙ্গলবার, ১৬ Jun ২০২৬, ০৯:১৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
জগন্নাথপুর ইসলামী ব্যাংকে যান্ত্রিক  ত্রুটি সারিয়ে অবশেষে গ্রাহককে টাকা প্রদান করেছে কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক জিলু কারামুক্ত; জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের ফুলেল শুভেচ্ছা শান্তিগঞ্জে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রীর এপিএস হাসনাত কা রা গা রে সুনামগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথপুরে আরএফএল শোরুম ‘মেসার্স শাহজালাল সেনেটারি’র উদ্বোধন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের  জগন্নাথপুর উপজেলা ও পৌর কমিটি অনুমোদন  সাংবাদিক আমিনুর রহমান জিলুর মুক্তির দাবিতে জগন্নাথপুরে প্রেসক্লাবের মানববন্ধন  পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে” – জগন্নাথপুরে কৃষি কংগ্রেসে বক্তারা রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পপতি

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় মোজাফফর আহমদকে শেষ বিদায়

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় মোজাফফর আহমদকে শেষ বিদায়

 

জগন্নাথপুর নিউজ ডেস্ক ::
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, দেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের পথিকৃৎ ও ন্যাপ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে শেষ বিদায় জানানো হল। তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশের বিশিষ্টজন, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিক, আত্মীয়স্বজনসহ অগণিত মানুষ এই গুণী মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন করেছেন। অনুষ্ঠিত হয়েছে কয়েক দফা জানাজা। রোববার কুমিল্লার দেবিদ্বারে পারিবারিক কবরস্থানে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিককে দাফন করা হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৯ মিনিটে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। তার মরদেহ রাখা হয় হিমাগারে।

শনিবার বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের টানেলে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে তার সহকারী সামরিক সচিব শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জানাজায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুস সোবহান গোলাপ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মরহুমের জীবনী পাঠ করেন ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন।

জানাজা পরিচালনা করেন সংসদ ভবন মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. সাইফুল্লাহ। জানাজা শেষে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মোজাফফর আহমদকে গার্ড অব অনার ও রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করা হয়। এ সময় এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়। আওয়ামী লীগের পক্ষে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সভাপতি শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

পরে মরদেহ নেয়া হয় ধানমণ্ডিতে ন্যাপের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার মরদেহ আনা হয় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।

এ সময় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ছাত্রলীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি), জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ কবিতা পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী পরিষদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। এ সময় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মরদেহ ফুলে ফুলে ভরে যায়।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোজাফফর আহমদের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মেয়ে আইভী আহমদ বলেন, আমার বাবা সারাজীবন গরিব মানুষের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি স্তম্ভ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সব মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হলেই বাবার স্বপ্নপূরণ হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থনের ক্ষেত্রে অধ্যাপক মোজাফফর অনন্য অবদান রেখেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।’

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘তিনি ছিলেন একজন জাতীয় নেতা। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছিলেন।’

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘অধ্যাপক মোজাফফর সমাজতন্ত্রের জন্য আত্মনিয়োজিত একজন নেতা ছিলেন। তিনি ন্যাপ নেতা ছিলেন বটে, কিন্তু রাজনীতির শুরুতে তিনি কমিউনিস্ট পার্টিরও একজন সদস্য ছিলেন।’

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বের পর বায়তুল মোকাররমে দ্বিতীয় দফা জানাজা হয় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের। কুমিল্লার দেবিদ্বারে শোকের ছায়া : কুমিল্লা ব্যুরো জানায়, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার জন্মভূমি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে। নির্লোভ এ রাজনীতিবিদ ছিলেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে আইকন।

এদিকে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অধীর অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী। জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও তাকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017-2026 Jagannathpurnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com