শনিবার, ১৩ Jun ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিক জিলু কারামুক্ত; জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের ফুলেল শুভেচ্ছা শান্তিগঞ্জে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রীর এপিএস হাসনাত কা রা গা রে সুনামগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথপুরে আরএফএল শোরুম ‘মেসার্স শাহজালাল সেনেটারি’র উদ্বোধন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের  জগন্নাথপুর উপজেলা ও পৌর কমিটি অনুমোদন  সাংবাদিক আমিনুর রহমান জিলুর মুক্তির দাবিতে জগন্নাথপুরে প্রেসক্লাবের মানববন্ধন  পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে” – জগন্নাথপুরে কৃষি কংগ্রেসে বক্তারা রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পপতি দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার জগন্নাথপুর প্রতিনিধি জিলু গ্রেপ্তার: প্রেসক্লাবের নিন্দা 

৭৭৬ দিন পর খালেদা জিয়া মুক্ত

৭৭৬ দিন পর খালেদা জিয়া মুক্ত

জগন্নাথপুর নিউজ ডেস্ক :: ৭৭৬ দিন। দুই বছরেরও বেশি সময় পর মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল বিকালে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পেলেন তিনি। তার মুক্তির খবর পেয়ে করোনা আতঙ্ক উপেক্ষা করে গতকাল দুপুর থেকেই জড়ো হতে থাকেন দলটির বিপুল কর্মী-সমর্থক। শাহবাগ মোড়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সামনে দলে দলে জড়ো হন তারা। কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে ধীরে ধীরে তার গাড়িটি হাসপাতাল থেকে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে পৌঁছে গুলশানে তার বাসভবন ফিরোজায়। পথে পথে ছিল কঠোর নিরাপত্তা। উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা এসময় খালেদা জিয়ার নামে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
রাস্তার দু পাশের ফুটপাত ও বহুতল ভবনের ছাদ, বারান্দা থেকে হাত নেড়ে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান অনেকে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় থেকে দুপুরে খালেদা জিয়ার মুক্তির আদেশ পৌঁছায় আইজি প্রিজনের কাছে। পরে বেলা ২টার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ মুক্তির ছাড়পত্র নিয়ে বিএসএমএমইউতে গেলে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে থাকে। কারাগারের অধীনে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে আনতে সেখানে উপস্থিত হন তাঁর ভাই শামীম ইস্কান্দার ও বোন সেলিনা ইসলাম। বেলা আড়াইটার দিকে সেখানে উপস্থিত হন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেৃতবৃন্দ। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের এই সময়ে খালেদা জিয়ার স্বজন ও বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ নিজেদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েই সেখানে হাজির হন। এসময় হাতজোড় করে উচ্ছসিত উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে অনুরোধ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিকাল সোয়া চারটায় বিএসএমএমইউ’র প্রিজন সেল থেকে বের হন খালেদা জিয়া। এসময় তার পড়নে ছিলো গোলাপি রঙের শাড়ি, চোখে চশমা, মুখে মাস্ক ও মাথায় হিজাব। হুইল চেয়ারে করে হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে বের করা হয়। নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে খালেদা জিয়াকে গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যেতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। ঢাকা মেট্টো-ভ-১১-০৬৯২ নম্বরের একটি প্রাইভেট কারে তোলা হয় খালেদা জিয়াকে। খালেদা জিয়ার সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতিমা। অন্য একটি গাড়িতে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারের সঙ্গী গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। তার সামনে পেছনে ছিলো ব্যক্তিগত নিরাপত্তকার্মী সিএসএফে’র দুটি গাড়ি। ছিলো পুলিশের একাধিক গাড়ি। এছাড়াও নেতাকর্মীদের গাড়ি ও মোটরসাইকেলের বহর ছিলো খালেদা জিয়ার গাড়ির সঙ্গে।
হাসপাতাল থেকে যানজটহীন সড়কে দীর্ঘ এক ঘন্টার বেশি সময় লাগে গুলশানের বাসায় পৌঁছাতে। খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িটি ৪০ মিনিটে হাসপাতাল থেকে কাওরানবাজার পৌঁছে। গুলশানের বাসায় পৌঁছে ৫টা ২০ মিনিটে।

ফিরোজায় গাড়িটি পৌঁছানোর পর সেজ বোন সেলিমা ইসলাম, তার স্বামী রফিকুল ইসলাম, প্রয়াত সাইদ ইস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন ইস্কান্দার, ডা. জোবায়দা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান জামান বিন্দুসহ পরিবারের সদস্যরা বেগম খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় সেজ বোন ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর হাতে ভর করে গাড়ি থেকে নেমে হুইল চেয়ারে বসেন। তারপর তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ফিরোজায় খালেদা জিয়ার গাড়ি পৌঁছলে সেখানে কয়েক’শ নেতা-কর্মী সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্লোাগান দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন, তাবিথ আউয়াল প্রমুখ।
সন্ধ্যায় গুলশানের ফিরোজা ভবনে সদ্য মুক্তি পাওয়া বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আপাতত তার নিজ বাসায় কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। আমরা ম্যাডামকে জানাতে এসেছি যে আমরা তার মুক্তিতে অনেক খুশি হয়েছি। আল্লার কাছে দোয়া করছি তিনি যেন এখান থেকে উঠে দাঁড়াতে পারেন। আবার রাজনীতিতে আসতে পারেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তার বাসায় গিয়েছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। আপাতত কিছুদিনের জন্য তাঁকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। ডাক্তাররা এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। তার সঙ্গে যাতে কেউ দেখা করতে না পারেন এসব বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এ সময় আমরা তাঁর সঙ্গে কোন রাজনৈতিক আলোচনা করিনি। আমাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সবাই তাঁর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

তার আগে ছয় সদস্যের ডাক্তারদের একটা টিম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার বাসভবনে যান। তারা হলেন, প্রফেসর ডা. এফ.এফ. রহমান, প্রফেসর ডা. রজিবুল ইসলাম, প্রফেসর ডা. আব্দুল কদ্দুস, প্রফেসর ডা. হাবিবুর রহমান, প্রফেসর ডা. সিরাজ উদ্দিন ও প্রফেসর ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017-2026 Jagannathpurnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com