শুক্রবার, ৩১ Jul ২০২৬, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
শান্তিগঞ্জে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত সুবিপ্রবিতে নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, দায়িত্বে অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার শান্তিগঞ্জে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ২৫ দিনে প্রবাসী আয় এলো ২৮ হাজার কোটি টাকা সার্ক পুনরুজ্জীবিত করতে একমত বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী দিরাইয়ে প্রথমবারের মতো ধামাইল কর্মশালা অনুষ্ঠিত জগন্নাথপুরে ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটিতে স্থান পেলেন ক্রীড়ানুরাগী শামীম আহমেদ সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন: আইনমন্ত্রী

সংসদ নির্বাচন তফসিলে গুরুত্ব পাচ্ছে সংলাপ

সংসদ নির্বাচন তফসিলে গুরুত্ব পাচ্ছে সংলাপ

জগন্নাথপুর নিউজ ডেস্ক::
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণে সংলাপকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপে কোনো সমঝোতা হলে তফসিলে পরিবর্তন আনা, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করাসহ কয়েকটি বিষয়েও চিন্তা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতিও শেষ করে আনা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রস্তুতির কথা জানাতে যাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনাররা।
৩ নভেম্বর শনিবার বিকালে বসবে কমিশনের সভা। পরদিন আরেকটি সভা বসার কথা রয়েছে। ওইদিনই তফসিল ঘোষণা ও সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন সিইসি। ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে আজ (৩১ অক্টোবর) থেকে সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণের আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা। সেই হিসাবে আজ থেকে ৯০ দিন গণনা শুরু হবে।
কারণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত দশম সংসদের প্রথম বৈঠক বসেছিল ২৯ জানুয়ারি। যদিও কমিশন বরাবরই বলে আসছে, ৩০ অক্টোবর থেকে নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে ইসির ভূমিকার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংলাপে রাজনৈতিক সমঝোতা যা হবে, আমরা সেটা আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ অ্যাকোমোডেট করার চেষ্টা করব।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদিও শতকরা ১০ ভাগ ভোট কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি ইসির রয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতা হলে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে রাজি।’ এই কমিশনার জানান, ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় কমিশন সভায় নির্বাচনের তফসিল নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা নেই।
অপরদিকে আরেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা পহেলা নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাব। ৩ ও ৪ নভেম্বর কমিশন সভা হবে। তবে তফসিল কবে হবে, তা এখনই বলতে পারছি না।
তবে ইসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, আগামী সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা করার প্রস্তুতি শেষ করা হচ্ছে। কমিশন সভায় তফসিল অনুমোদন করার দিনই তা ঘোষণা করা হবে।
ওইদিনই বিটিভি ও বেতারে সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি। বেসরকারি টেলিভিশনগুলো বিটিভি থেকে ফিড নিয়ে তা প্রচার করবে। তিনি জানান, ৪ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা হতে পারে। এর আগে রাজনৈতিক সমঝোতা হলে তফসিল ঘোষণা পেছাতে পারে।
আর তফসিল ঘোষণার পর সমঝোতা হলে ভোটের তারিখে পরিবর্তন আনা হতে পারে। এ সময় তিনি ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, ওই সময়ে একাধিকবার ভোটের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছিল।
ইসির একজন যুগ্ম সচিব জানান, সিইসির ভাষণ সম্প্রচারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিটিভি ও বেতারকে চিঠি দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। খসড়া চিঠিতে ভাষণ প্রচারের তারিখের স্থানে কিছু লেখা হয়নি।
শুধু বলা হয়েছে, ‘আগামী … নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ প্রদান করবেন।’ তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন বিটিভির মহাপরিচালক।
এদিকে ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত সফর শেষে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি এয়ারপোর্টে বসেই নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কয়েক কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। কাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে অন্য কমিশনারদের সঙ্গে তিনি যাবেন বলে ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ইসি সচিবালয় তফসিল ঘোষণার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ৩ নভেম্বর কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই সভায় দুটি এজেন্ডা রয়েছে।
সেগুলো হচ্ছে- আরপিও সংশোধন সংক্রান্ত বিধিমালা পর্যালোচনা এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি। আরও জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর সংশোধনী সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর তা অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হচ্ছে। আজ বা কাল এটি জারি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ওই সংশোধনীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, আচরণ বিধিমালা ও ইভিএম বিধিমালায় সংশোধনের প্রয়োজন হবে। ৩ নভেম্বরের বৈঠকে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
পাশাপাশি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে কমিশনে তোলা হবে। এছাড়া মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্বাচনের ম্যানুয়াল তৈরির বিষয়েও কাজ করেছেন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে জয়লাভ করে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017-2026 Jagannathpurnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com